ভারতে ‘জনতার কার্ফু’ বেনাপোলে আমদানি রপ্তানি বন্ধ

ভারতে ‘জনতার কার্ফু’ বেনাপোলে আমদানি রপ্তানি বন্ধ

আসাদুজ্জামান শাওন, যশোর প্রতিনিধি:
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখে দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডাকা ‘জনতার কার্ফুর’ কারনে প্রেট্রাপোল ও বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে।

তবে এ পথ দিয়ে পাসপোর্টে যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে। রবিবার (২২ মার্চ) সকাল থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ হয়ে যায়।

ভারতের প্রেট্রাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, করোনা সংক্রমণ রুখে দিতে গোটা ভারত জুড়ে রোববার সকাল সাতটা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত জনতা কার্ফু চলছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখে দিতে জনতার কাছে প্রথম পর্যায়ে ১৪ ঘণ্টা স্বেচ্ছায় ঘর বন্দি থাকার আবেদন জানিয়েছিলেন। আর এ কারনেই রোববার আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কাজকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত সিঅ্যান্ডএফ মালিক,কর্মচারী,হ্যান্ডলিং শ্রমিক ট্রান্সপোর্ট শ্রমিকরা স্বেচ্ছায় ঘর বন্দি থাকায় দু’বন্দরের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে।সোমবার সকাল থেকে পূনরায় আমদানি রপ্তানি চলবে।

বেনাপোল কাস্টমসের কার্গো শাখার কর্মকর্তা নাসিদুল হক বলেন, ভারতের অভ্যন্তরে কারফিউ জারি করায় সকাল থেকে কোনো পণ্যবাহী ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেনি। বেনাপোল বন্দর থেকেও কোনো রফতানি পণ্যবাহী ট্রাক ভারতে যেতে পারছে না। তবে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম সচল রয়েছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান সজন বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ভারত সরকার জনতার কারফিউ জারি করায় আজ সকাল থেকে এই বন্দর দিয়ে দুই-দেশের আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে। এতে তাদের বাণিজ্য থমকে দাঁড়িয়েছে।

বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবিব বলেন, ওপারে জনতার কার্ফু থাকলেও আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট খোলা রয়েছে এবং পাসপোর্ট যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে।

উল্লেখ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় এ পথে প্রতিদিন প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার দেশ-বিদেশি যাত্রী দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করে থাকে। তবে করোনা আতঙ্কের কারণে এখন তার সংখ্যা কম। এছাড়া প্রতিদিন এ পথে প্রায় ৪ শতাধিক ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য ভারত থেকে আমদানি হয়, ভারতে রফতানি হয় দুই শতাধিক ট্রাক পণ্য। প্রতিদিন আমদানি পণ্য থেকে সরকারের প্রায় ২০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazartvsite-01713478536