ইসি কর্তৃক পযর্বেক্ষক ও সাংবাদিক পরিচয়পত্র; দু’টি এক নয়: এস এম জীবন

ইসি কর্তৃক পযর্বেক্ষক ও সাংবাদিক পরিচয়পত্র; দু’টি এক নয়: এস এম জীবন

আসুন জেনে নেই। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ইস্যুকৃত পযর্বেক্ষক ও সাংবাদিক এই দুইটি পরিচয় পত্রের মধ্য প্রার্থক্য কি?

(১) পর্যবেক্ষক (OBSERVER)
পর্যবেক্ষকের দায়ীত্ব হলো ইলেকশন মনিটরিং করা এবং তার দেখা ভালো মন্দের উপর প্রতিবেদন তৈরি করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া। পর্বেক্ষকরা নির্বাচন কমিশনের নিয়ম নীতি ও শর্ত অনুযায়ী নির্বাচনের সকল কার্যক্রম নির্বাচনের পূর্বের দিন বা তারও পূর্বে থেকে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সময় কোন সমস্যা হলে যেমন কলমে কালি কম, ষ্ট্যাম্প প্যাডে কালির ঘাটটি, একই নাম্বারে একাধিক ব্যালট, জাল ভোটে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার বা প্রশাসনের সহায়তা বা নিশ্চুপ ভুমিকা, বিদ্যুৎ সল্পতা, অন্ধকার বুথ, পুলিং এজেন্টদের মোবাইল ব্যবহার, পুলিং এজেন্টরা একাধিকবার বাইরে যাওয়া আসা, ব্যাগ ব্যবহার, ভোট দেওয়ার সিলে থাকা কালি শুকিয়ে যাওয়া, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ লোকদের ভোট প্রদানে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের যথাযত ব্যবস্থা গ্রহনা না করা, ভোট কেন্দ্রটি উপযুক্ত কিনা তাহা লক্ষ্য করা, এরকম আরো যে-কোনো বিষয়ে নিয়ে পর্যবেক্ষকরা দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার ও প্রশাসন থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনের সাথে যে-কোনো সমস্যা, অনিয়ম ও অভিযোগ নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে পর্যবেক্ষকরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করতে পারবেন। তবে অনুমতি ছাড়া কোন ক্রমেই কেন্দ্রের ভিতরের ছবি বা ভিডিও করা যাবেনা, বুথ এর ভিতরে কোন ক্রমেই যাওয়া যাবেনা।যত্র তত্র সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দেওয়া যাবে না। যদিও সাক্ষাৎকার দেওয়া হয় তাহলে এমন কোন উষ্কানীমূলক কথা বলা যাবে না যাহাতে নির্বাচনের ক্ষতি হয়।

(২) সাংবাদিক (JOURNALIST)
সাংবাদিকের দায়ীত্ব হলো নির্বাচন কমিশনের নিয়ম নীতি ও শর্ত অনুযায়ী, নির্বাচন চলাকালীন কোন সমস্যা ও অনিয়ম হলে অর্থাৎ সাংবাদিকরা দু চোখে যা যা দেখেছেন তা নিয়ে যার যার পত্রিকায় রিপোর্ট করতে পারবে। কিন্তু তারা নিজেকে পর্যবেক্ষক হিসেবে দাবি করতে পারবে না এবং কোথাও কোনো সমস্যা বা অনিয়ম হলে এসব নিয়ে নির্বাচন চলাকালীন দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার ও প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের বরাবর কোন অভিযোগ অথবা আলোচনা করার সুযোগ থাকবেনা।
সাংবাদিকগন ভোটকেন্দ্রে নির্ধারিত সিমানা অতিক্রম করতে পারবেনা। ভোট কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করতে হলে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে, তবে বুথের ভিতর কোন ছবি তোলা যাবেনা।

মন্তব্যঃ অনেকেই নির্বাচন কমিশন থেকে সাংবাদিক কার্ড পেয়ে পর্যবেক্ষক/পর্বেক্ষণ বলে ফেসবুকে আপলোড দিয়ে থাকে, যা সম্পুর্ন ভুল।
বিশেষ করে যে সকল ফাউন্ডেশন/সোসাইটি গুলো নির্বাচন কমিশনের তালিকাভুক্ত, একমাত্র তারাই নির্বাচন কমিশনের নিয়মনীতি ও শর্ত সাপেক্ষে পর্যবেক্ষণ করার দায়ীত্ব পেয়ে থাকে।

বিঃদ্রঃ নির্বাচন মনিটরিং এর সকল নিয়মনীতি জানতে ও বুঝতে, নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও রিপোর্ট করতে ইচ্ছুক অথবা কার্ড প্রাপ্ত প্রত্যেক সাংবাদিক ও সকল সংস্থার কর্মী ও মানবাধিকার কর্মীদের ইলেকশন মনিটরিং এর উপর ট্রেনিং করা বাধ্যতামূলক।
অন্যথায় নিয়মনীতি না জানার কারণে, নির্বাচন চলাকালীন ইসি’র দেওয়া আইন ভঙ্গ করার কারনে যেকোন সময় বিপদের সম্মুখীন হতে পারেন।

মতামত ও পরামর্শক্রমে
এস এম জীবন
(সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী)

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazartvsite-01713478536