করোনা আক্রান্তে খুলনা বিভাগে যশোর শীর্ষে, লকডাউনের দাবি

করোনা আক্রান্তে খুলনা বিভাগে যশোর শীর্ষে, লকডাউনের দাবি

শাহারুল ইসলাম ফারদিন: যশোরঃ গোটা দেশ আজ করোনার কাছে ধরাশয়। দিনদিন বাড়ছে মৃত্যু সংখ্যা। একজন থেকে এখন দেড়শো ছুঁই ছুই(১৪৫)। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে মুড়ি মুড়কির মত। পাঁচহাজার পেরিয়ে গেছে এখন আক্রান্তের সংখ্যা ৫,৪১৬ জন। ঢাকা থেকে শুরু পরে আশপাশের এলাকা। এরপর গোটা দেশ আজ করোনার ছোবলে কুপোকাত। কিন্তু কয়েকদিন আগেও যশোর জেলা অনেকটা নিরাপদ ছিলো। কিন্তু কয়েকদিনের ব্যবধানে খুলনা বিভাগের শীর্ষে অবস্থান করছে এখন যশোর জেলা। খুলনা বিভাগে আজ রবিবার ৭০ জনের মধ্যে যশোরেই ৩০জন (সুস্থ ১জন)। যা প্রায় অর্ধেক। এমতাবস্তায় গোটা জেলাকে লকডাউনের আওতায় আনার সময় এসেছে বলে দাবি করছেন অনেকে।
সূত্র জানায়, যশোরে একদিনে করোনায় আক্রান্ত ১৪ জন,
যশোরে নতুন করে আরও ১৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হলেন ২৯ জন।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক ইকবাল কবীর জাহিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শার্শায় করোনায় নতুন ৪ জন আক্রান্ত
তিনি বলেন, “গত ২৪ ঘন্টায় ল্যাবে যশোরের ৪২টি, ঝিনাইদহের ১৫টি, নড়াইলের ৪টি, মাগুরার ৫টি মিলে সর্বমোট ৬৬ টি নমুনার পরীক্ষা করা হয়। যার মধ্যে ২৭টি’তে করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে।
আক্রান্তদের মধ্যে, যশোরে ১৪ জন, ঝিনাইদহে ৮ জন, নড়াইলে ৩ জন ও মাগুরায় ২ জন নতুন রোগী রয়েছেন।
এর আগে শনিবার যশোরে ৯ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। মাত্র ৪১ টি নমুনা পরীক্ষা করেই ৯ জনের শরীরের এই করোনার অস্তিত্ব মেলে।
যশোর জেলায় ১২ এপ্রিল প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম শনাক্ত হওয়া রোগীর বাড়ি জেলার মনিরামপুর উপজেলায়। তিনি পেশায় একজন স্বাস্থ্যকর্মী।যশোরে আক্রান্ত খুলনা বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক। যশোরের বাইরে সাতক্ষীরা ও ঝিনাইদহ জেলার দু’ বাসিন্দা নতুন করে শনাক্ত হওয়ায় খুলনা বিভাগের ১০টি জেলাতেই পাওয়া গেল করোনা আক্রান্ত রোগী। এ নিয়ে খুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ৭০ এ।
এমতাবস্থায় যশোরের সচেতন মহলের দাবি, যশোর সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় অনেকটা ঝুঁকিতেই রয়েছে আগে থেকেই। বর্তমানে হু হু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বিভিন্ন এলাকায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে দেধারছে। এমন মুহুর্তে প্রশাসনের পক্ষথেকে পুরো জেলাকে লকডাউন করা উচিৎ। অন্যথায় যেকোনো ধরণের ভয়াভয় পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হতে পারে যশোরবাসীর।

দিন দিন বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। দেশে এক দিনের ব্যবধানে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪১৮ জন। মারা গেছেন আরো ৫ জন। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে করোনা ভাইরাস নিয়ে নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আইইডিসিআর এর অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। আইইডিসিআরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৪১৬ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৫ জনে। দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত (কোভিড-১৯) প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ এবং ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়, গত ২৫ এপ্রিলের সকাল ৮ ঘটিকা পর্যন্ত দেশের ৮ টি বিভাগে ৬০ টি জেলায় আক্রান্তের ঘটনা নিশ্চিত করা গেছে। ঢাকা বিভাগে সর্বোমোট আক্রান্ত ১,৪৫৪ জন এবং শতকরা হারে ৩৩.৬১% (ঢাকা মহানগরে ২,২২৪ জন এবং আক্রান্তের হার ৫১.৫০%)। চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোমোট আক্রান্ত ১৭০ জন এবং শতকরা হারে ৩.৯৩%। সিলেট বিভাগে সর্বোমোট আক্রান্ত ৬৯ জন এবং শতকরা হারে ১.৬০%। রংপুর বিভাগে সর্বোমোট আক্রান্ত ৭২ জন এবং শতকরা হারে ১.৬৬%। খুলনা বিভাগে সর্বোমোট আক্রান্ত ৩৮ জন এবং শতকরা হারে ০.৮৮%। ময়মনসিংহ বিভাগে সর্বোমোট আক্রান্ত ১৬৮ জন এবং শতকরা হারে ৩.৮৮%। বরিশাল বিভাগে সর্বোমোট আক্রান্ত ৮৬ জন এবং শতকরা হারে ১.৯৯%। রাজশাহী বিভাগে সর্বোমোট আক্রান্ত ৩৩ জন এবং শতকরা হারে ০.৭৬%।
এছাড়া, ১৮ এপ্রিলের তথ্যানুসারে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশী। বাংলাদেশের হার ৪% যা ভারতে ৩.৩; পাকিস্তানে ১.৮; শ্রীলঙ্কায় ২.৯; এবং আফগানিস্তানে ৩.৬% । দক্ষিণ এশিয়ায় নেপাল,ভুটান ও মালদ্বীপের অবস্থান তুলনামূলক ভাল। যার প্রধান কারণ হিসেবে শুরুতেই ওসব দেশ ‘লকডাউন’ বাস্তবায়ন করতে পেরেছে বলে মনে করছে সবাই।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazartvsite-01713478536