বরিশালে ভ্রাম্যমান আদালতে ১২ ক্রেতা ও ৯ দোকানিকে জরিমানা

বরিশালে ভ্রাম্যমান আদালতে ১২ ক্রেতা ও ৯ দোকানিকে জরিমানা

খান ইমরান, বরিশাল থেকে :

বরিশাল জেলা প্রশাসনের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজও বরিশাল নগরীতে মোবাইল কোর্ট অভিযান অব্যাহত ছিলো। দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা ঠিক রাখতে ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে কারখানাসমূহ খোলা রাখারা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায়, বরিশালের প্রতিষ্ঠানসমূহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা যাচাইকল্পে বরিশালের জেলা প্রশাসক এস, এম, অজিয়র রহমানের নির্দেশনায় নিয়মিতভাবেই বিভিন্ন দোকান, শপিংমল এবং কারখানা পরিদর্শন করছে বরিশাল জেলা প্রশাসনের ৫ টি ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ঈদ কেনাকাটায় স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিধি অমান্য করায় ৯ টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং ১২ জন ক্রেতাকে ৫৩ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করেন।

তারই ধারাবাহিকতায় ১৭ মে দিনভর বরিশাল নগরীর বাংলাবাজার, চকবাজার, বাজার রোড, কাঠপট্টি, ফলপট্টি, গীর্জা মহল্লা ,বটতলা ও পুলিশ লাইন, সদর রোড, বগুড়া রোড, চৌমাথা এলাকায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ ও দ্রব্যমূল্যের বাজার দর মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সচেতনতামূলক এ কার্যক্রম পরিচালনার সময় বরিশাল জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জিয়াউর রহমান, শরীফ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাজমূল হুদা ও মারুফ দস্তেগীর পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে ঈদ কেনাকাটায় স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিধি প্রতিপালন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে বিশেষ বাজার মনিটরিং অভিযান পরিচালনা করেন।

এ সময় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে টহল অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং সচেতনামূলক মাইকিং করা হয়। বরিশাল নগরীর কাঠপট্টি, চকবাজার ও গির্জামহল্লা এলাকায় মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জিয়াউর রহমান। অভিযানকালে স্ত্রী ও শিশু সন্তানসহ পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে কেনাকাটায় আসার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ঝুঁকি বৃদ্ধি করায় তিনজন ব্যক্তিকে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইনের ২৫(২) ধারায় ১ হাজার ৩০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়াও চকবাজার এলাকার ৩টি দোকান মালিককে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি না মানার জন্য একই আইনে আরো ৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একাধিকবার সতর্ক করা স্বত্তেও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ৩টি কাপড়ের দোকানকে সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। একই স্থানে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শরীফ মোঃ হেলাল উদ্দীন। অভিযানকালে স্ত্রী ও শিশু সন্তানসহ পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে কেনাকাটায় আসার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ঝুঁকি বৃদ্ধি করায় দুইজন ব্যক্তিকে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইনের ২৫(২) ধারায় ১ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয় হয়। এছাড়াও চকবাজার এলাকার ১টি দোকান মালিককে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি না মানার জন্য কাপড়ের দোকানকে সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। অপর দিকে বরিশাল নগরীর সদর রোড ও গীর্জা মহল্লার পোশাকের দোকানগুলোতে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুল ইসলাম। অভিযানকালে গীর্জা মহল্লায় দুইটি দোকানে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে কেনাকাটায় আসার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ঝুকি তৈরি করার অপরাধে পাঁচজন ব্যক্তিকে দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারায় প্রত্যেককে ১ হাজার টাকা করে মোট ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অপরদিকে বিকেলে সাড়ে ৩ টার দিক থেকে নগরীতে দুইটি মোবাইল কোর্ট টিম অভিযান পরিচালনা করেন এসময় মহানগরীর পুলিশ লাইন, সদর রোড, গির্জা মহল্লা ও চকবাজার, বটতলা, বাংলাবাজার ও বাকলার মোড় এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমূল হুদা। এসময় কাঠপট্টিতে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের পরে দোকান খোলা রাখা ও স্বাস্থবিধি না মানার কারণে মেহরাপ নামে এক ইলেকট্রনিকস দোকানদার কে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারা অনুযায়ী ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বাকলার মোড়ে একই অপরাধের শংকর নামে এক ব্যক্তি কে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপর একটি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ দস্তেগীর। এসময় অভিযান চালিয়ে নগরীর বগুড়া রোড এলাকায় সরকারি নির্দেশনা না মেনে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত দোকান খোলা রেখে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার অপরাধে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইনের ২৫(২) ধারায় রিগাল ফার্নিচার কে ৫ হাজার টাকা, ভিশন ইমপ্রিমার কে ১৫ হাজার টাকা এবং বগুড়া রোডে বাংলাদেশ ব্যাংক সংলগ্ন বুলুমুন কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। পাশাপাশি কাঠপট্টি এবং গীর্জা মহল্লা এলাকায় একই আইনে ২ টি প্রতিষ্ঠান কে ৩ হাজার টা এবং একজন ব্যক্তিকে ১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। তাছাড়া কর্তব্যরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয় কর্তৃক করোনা ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে সর্বক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করে চলাচলের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে উপস্থিত জনগণকে সচেতন করা বিভিন্ন দোকান ও গলির মোড়ে মোড়ে যেখানেই জনসমাগম দেখা গেছে, তা ভেঙ্গে দিয়ে পরবর্তিতে আইনানুগ শাস্তির বিষয়ে সতর্ক করে সবাইকে বাসায় চলে যাবার নির্দেশ দেয়া হয় একই সাথে আবশ্যকীয় প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়। অভিযানে আইনশৃংখলা রক্ষায় সহযোগিতা করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ৪টি টিম এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুটি টিম। ঈদের কেনাকাটায় সামাজিক দূরত্ব রক্ষা এবং স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে বরিশাল জেলা প্রশাসনের এই অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান কর্তব্যরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বৃন্দ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazartvsite-01713478536