চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারে কে এই ইভান ? করোনা দূর্যোগকালে থেমে নেই যার চাঁদাবাজী

চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারে কে এই ইভান ? করোনা দূর্যোগকালে থেমে নেই যার চাঁদাবাজী

ডেক্স রির্পোট
চলমান (কোভিড -১৯) তথা করোনা ভাইরাস চলতি বছর মার্চ এর ৮তারিখ হতে এর সংক্রামন সূচনা হয়ে দিন দিন তা বেড়েই চেলেছে। যার জন্য দেশব্যাপী কিছু মাস লকডাউন থাকার কারনে সকল স্তরের মানুষ পরেছে আর্থিক সংকটে, নিম্নবিত্ত শ্রমজীবি দিন মজুরের মধ্যে রিকশাওয়ালা, সিএনজি চালক সহ আরো অনেক পেশার মানুষ চক্ষু লজ্জা ছেরে জীবিকার তাগিতে হাত পেতে নেমে পরেছিল রাস্তায়। কেহ কেহ বাসা ভাড়া দিতে না পেরে চলে যাচ্ছে শহর ছেড়ে, লকডাউন খোলার পর সকল পেশাজীবি মানুষরা সরকারি আইন মেনে তাদের কাজে লেগে পরেছিলো।
 
কিন্তু করোনা এই দূর্যোগকালীন জনগণের এই ক্লান্তিলগ্নে বন্দরনগরীর চকবাজার এলাকাই অসহায় মানুষদের থেকে চাঁদাবাজিতে দিশাহারা হয়ে পরেছে সাদ্দাম হোসেন ইভান (২৬) নামের এক যুবক। গত ২২সেপ্টেম্বর ২০১৯ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগ নেতা নুর মোস্তফা টিনুর অনুসারী হিসেবে চকবাজারে পরিচিত ইভান, টিনুর নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন কোচিং সেন্টার থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে ইভানের উপর। র‌্যাবের সন্ত্রাস ভুক্ত তালিকায় ইভান এর নাম থাকলেও টিনু গ্রেপ্তারের পর ইভান আত্মগোপনে চলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার চকবাজারে ডুকে টিনু অনুসারী পরিচয় গোপন রেখে, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহম্মেদ ইমুর নাম ভাঙ্গিয়ে আবার চাঁদাবাজিতে মেতে উঠে ইভান।
 
চাঁদাবাজিতে বিভিন্ন প্রন্থা অবলম্বন করে থাকে ইভান, ইট বালু ব্যবসার নামে চালিয়ে যাচ্ছে নিয়মিত চাঁদাবাজি, যে ইট বাজারে প্রাইকারি ৫, ৬ টাকা সে ইট তার থেকে কিনতে হবে ১০,থেকে ১২ টাকা দিয়ে অন্যথায় বিল্ডিংয়ের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয় বিল্ডিং মালিকদের, পাশাপাশি ছার নেই চকবাজারের হোটেল রেস্টুরেন্টে গুলো, কুটুমবাড়ি, চকমালঞ্চ, সাদিয়াস কিচেন সহ বিভিন্ন রেষ্টুরেন্টে মুরগী নিতে বাধ্য করে ওজনেও কম দেয়, নিলে টাকা বাড়িয়ে দিয়ে নিতে হবে ইভান থেকে না হয় বন্ধ করে দিবে রেস্টুরেন্টে। কেয়ারী এলিসিয়াম মার্কেট থেকে আগ্রাবাদ পর্যন্ত টেম্পু চলাচলে দিতে হয় তাকে মাসিক চাঁদা, না হয় গাড়ি ড্রাইভারদের এসে প্রতিদিন মারধর করে ইভান। লকডাউনে রাস্তায় নেমে মানুষের থেকে হাতে পেতে ত্রান নেওয়া টঙ্গ দোকানদারদের ও ছার দেয় না ইভান, কেয়ারির সামনে বসা চায়ের দোকানদারদের প্রতি দোকান থেকে দিতে হয় ২০ টাকা করে। ইভানের রয়েছে একটি ছিন্তাই বাহিনী যাদের দিয়ে সে প্রতিনিয়ত ছিন্তাই ও মাদক ব্যবসা করিয়ে থাকে, স্কুল কলেজ গুলো যখন খোলা ছিলো চকবাজার বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে কোচিং করতে আসতো সাধারণ শিক্ষার্থীরা, ইভান তার ছিন্তাই বাহিনী দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোবাইল ছিনতাই করিয়ে নিতো। ইতোমধ্যে কয়েকজন ছিন্তাইকারি পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হয় চকবাজার থানায় তারা সবাই ইভানের অনুসারী হিসেবে জবানবন্দি দেয় পুলিশের কাছে।
 
বিভিন্ন থানায় ইভানের নামে রয়েছে চাঁদাবাজি ছিন্তাই, অপহরণ, মাদক মামলা, একটি অপহরন মামলায় সে দির্ঘদীন কারাগারে ছিলো। এ বিষয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চায়ের দোকানদার বলেন, আমরা লকডাউন এর কারনে অনেক কষ্টে পরে গেছি, লকডাউনে পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে জীবন যাপন করতে হয়েছে, কিস্তিতে টাকা নিয়ে দোকানের মালামাল কিনে দোকান চালু করেছি, এর মধ্যে এসে খুজতেছে চাঁদা, আমরা অসহায় মানুষগুলো কোথায় যাবো এমন হলে, কিস্তির টাকা শোধ করবো নাকি চাঁদাদিবো, নাকি পরিবারের মুখে খাবার দিবো ? এ বিষয়ে জানতে, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহম্মেদ ইমুর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে ফোন করা হলে তার সংযোগ পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazartvsite-01713478536