জাল টাকা ব্যবসায়ী বাকেরগঞ্জের নুরু ও তার সহযোগী মানিকগঞ্জে র‌্যাবের হাতে আটক

জাল টাকা ব্যবসায়ী বাকেরগঞ্জের নুরু ও তার সহযোগী মানিকগঞ্জে র‌্যাবের হাতে আটক

ষ্টাফ রির্পোটার :
অবশেষে র‌্যাবের জালে ধরা পড়েছে বরিশালের জাল টাকা ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম খান ওরফে নুরু খাঁ। গতকাল জাল টাকা এবং ভুয়া স্ট্যাম্পসহ নুরুল ইসলাম ও তার সহযোগী ফেরদৌসকে মানিকগঞ্জ থানা এলাকা থেকে আটক করেছে র‌্যাব-৩ সদস্যরা। তাদেরকে মঙ্গলবার মানিকগঞ্জ থানায় সোপর্দ করে র‌্যাব বাদী হয়ে মামলা করেছে। আটককৃত জাল টাকা ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম খান বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দী ইউনিয়নের সঠিখোলা গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ খানের ছেলে। আর ফেরদৌস মানিকগঞ্জ উপজেলার ঘিওর এলাকার শেখ একরামউদ্দীনের ছেলে।
 
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, আটককৃতদের কাছ থেকে কিছু স্ট্যাম্প এবং ৮শ টাকা মূল্যের জালনোট উদ্ধার করা হয়েছে। নুরুল ইসলাম দীর্ঘ বছর ধরে জাল টাকা এবং মাদক ব্যবসা করে আসছে। তার বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা জব্বার আলী খানের আশ্রয়ে এসব অপকর্ম করছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সম্প্রতি নুরুর শ্যালক তার এক নিকটাত্মীয়কে ৬০ হাজার টাকার জালনোট দিয়ে ধরা পড়েন। এনিয়ে তাদের নিজেদের মধ্যে বিরোধ হয়। একাধিক সূত্র জানায়, নুরুর শ্যালক কয়েক বছর আগে বাকেরগঞ্জে বিয়ে করেন। সম্প্রতি তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ দেখা দিলে বিচ্ছেদ ঘটে। মেয়ে পক্ষকে ২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। ওই দুই লাখ টাকার মধ্যে ৬০ হাজার টাকার নোট জাল ছিল। পরবর্তীতে ওই টাকা নুরুর কাছে ফেরৎ পাঠানো হয়। চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারী স্থানীয় জনতা নুরু খানকে ৮ হাজার টাকার জাল নোটসহ আটক করে পুলিশে খবর দেয়। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থল আসার পূর্বে কৌশলে পালিয়ে যায় নুরু খাঁ। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৫ হাজার টাকার জালনোট উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরও করা হয়।
 
ওই সময় শার্শী পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই জসিম উদ্দীন জানিয়েছিলেন ‘সুমন খান নামে এক ব্যক্তি বরিশাল নগরের রুপাতলি এলাকায় কাপড়ের ব্যবসা করতেন। তার সাথে নুরু খানের ভাল সম্পর্ক ছিলো। সুমন মাঝে মাঝে নুরু খানের বাসায় গিয়ে থাকতেন। মঙ্গলবার (১৭ডিসেম্বর ২০১৯) দুপুরে নুরু খানের জন্য মাসুম বিল্লাহ নামের একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকায় একটি টিভি ক্রয় করেণ সুমন। ক্রয়ের সময় ৯ হাজার টাকা (এক হাজার টাকার ৯টি নোট) বিক্রেতাকে নগদ পরিশোধ করা হয়। পুর্ব পরিচিত থাকায় টাকা গ্রহনের সময় পরীক্ষা করা হয়নি। টিভি নিয়ে কিছু দূর যাবার পরে বিক্রেতা দেখতে পান ৯ হাজার টাকার মধ্যে ৮টি নোটই জাল। পরে স্থানীয় লোকজন নুরু খান ও সুমনকে ধরে উত্তম মাধ্যম দেয়। এর পর পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে এক হাজার টাকার ৫টি নোট উদ্ধার করা হয়। বাকী চার হাজার টাকা কে বা কারা নিয়ে গেছে তা জানা যায়নি।
 
এদিকে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানান গেছে নুরু খান অনেকের সাথে জাল টাকা ধরিয়ে দিয়ে প্রতারণা করেছেন। কিছু দিন পূর্বে তালুকদার হাটের ওষুধ ব্যবসায়ী মোজাম্মেলের কাছ থেকে ৩৩০ টাকার ওষুধ ক্রয় করে এক হাজার টাকার নোট ধরিয়ে দেন। বিক্রেতাকে তাকে ৬৭০ টাকা ফেরৎ দেন। কিন্তু পরে পরীক্ষা করে দেখা যায় নোটটি জাল। এর পর ওষুধ ব্যবসায়ী মোজাম্মেল নুরু খানকে ডেকে এনে টাকা আদায় করেন। ২০১৯ সালের ১৮ জানুয়ারী ধলু মল্লিক নামে এক ব্যবসায়ীকে এক হাজার টাকার জাল নোট ধরিয়ে দেয় নুরু। বিষয়টি ধরা পড়ার পর ওই টাকা ফেরৎ নেয় নুরু। শেষ পর্যন্ত শেষ রক্ষা হলো না জালনোট ব্যবসায়ী নুরুর। তার গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

themesbazartvsite-01713478536